নির্বাচনী প্রচারণায় হার্ডলাইনে ফেসবুক ও টিকটক

২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০১:২৬  

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ সংসদীয় নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে মাঠের পাশাপাশি অনলাইনেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচনের মাঠে না থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় প্রধান বিরোধীদল বিএনপি। অনলাইন সুবিধার মোক্ষম ব্যবহারে এগিয়ে রয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। দলগুলো ফেসবুক, টুইটার, টিকটক ও ইউটিউব-এ বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মূলত, দেশের ১০ কোটির অধিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একটা বড় অংশ সামাজিক মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউব-এ সক্রিয় হওয়ায় তাদের জন্য বিশেষ কৌশল বেছে নিয়েছে দলগুলো। এই কৌশল নেয়ার বিষয়ে গুগল, টিকটক ও ফেসবুক এরই মধ্যে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে বৈঠকও করেছে।

বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন ১৩ কোটির মতো ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। এরমধ্যে ৫ কোটির বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। এদিকে স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন রিসার্চ ল্যাবের (ইনফোল্যাব) এক বিশ্লেষণ বলছে, ফেসবুক-এ ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ পেজের অনুসারী ৩৪ লাখ, বিএনপির মিডিয়া সেলের ২৫ লাখ। তবে এক বছর আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপির পেজের পোস্টের সংখ্যা বেশি। উভয় দলই নিজেদের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আন্তসংযুক্ত নেটওয়ার্কগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রচার-প্রচারণার নামে যেনো দলগুলো মিথ্যা তথ্য, গুজব বা ঘৃণা ছড়াতে না পারে সে জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ফেসবুক, টিকটক ও গুগল। এদের মধ্যে গত ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত ফেসবুক এরই নির্বচনী প্রচারণা নীতিমালা অনুযায়ী, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নির্বাচনী প্রচারণায় শৃঙ্খলা আনতে ৪০ হাজার কর্মী কাজ করছে। (২০১৬ সালেই এই কাজে ২০ বিলিয়নের অধিক ডলার বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি। ) এসব কর্মী নির্বাচনী প্রকিয়া কিংবা ভোট দানে বাধা বা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলে অথবা যেসব বক্তব্যের কারণে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হতে পারে এমন কন্টেন্ট সরিয়ে পড়ার আগেই সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।

ফেসবুক এর মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ এক ব্লগ পোস্টে বলছেন, ‘অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন যেহেতু আসছে, আমরা ঠিক করেছি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নীতি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো আপডেট করা হবে এবং ২০২৪ সালে তা প্রযোজ্য হবে।’ তিনি আরো বলছেন, ‘নাইজিরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক এবং আর্জেন্টিনায় সাম্প্রতিকতম বড় নির্বাচন এবং সামনের বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য ও আঞ্চলিক নির্বাচনগুলো চলাকালীন আমাদের প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার বন্ধ করতে চাইছি।’

২০২৪ সালের প্রথম থেকেই বিজ্ঞাপনদাতাদের জানাতে হবে যে, তারা কোনো রাজনৈতিক (পলিটিক্যাল) বা সামাজিক (সোশ্যাল) বিষয় নিয়ে বিজ্ঞাপন তৈরি করার সময় এআই বা অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে কিনা। এটি তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন বিজ্ঞাপনটিতে একটি ফটোরিয়ালিস্টিক ইমেজ বা ভিডিও বা বাস্তবসম্মত সাউন্ডিং অডিও থাকে। বিজ্ঞাপনদাতাকে পরিষ্কার করে দিতে হবে, সেই ছবি, ভিডিও বা অডিও সত্যিকারের। এআই-এর কারসাজিতে কনটেন্টে কোনো কারিকুরি করা হয়নি, তা-ও প্রমাণ করতে হবে বিজ্ঞাপনদাতাকে।

এক্ষেত্রে ভোটার নিবন্ধন, প্রার্থীর যোগ্যতা, ব্যালট গণনা এবং নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কিত এমন আরো বিষয় এতে বিবেচনা করছে তারা। ৪০ হাজারের বেশি কর্মী এবং উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্বাচন সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য চিহ্নিত করতে এবং সেই সাথে তা অপসারণ করতে স্থানীয় এবং আঞ্চলিক ফ্যাক্ট-চেকারদের সাথে কাজ করেছে টিকটক। যেসব কনটেন্ট রিভিউ বা যাচাইয়ের জন্য এবং অসত্য হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, সেগুলো ‘ফর ইউ’ ফিডের জন্য রেস্ট্রিকটেড থাকে। এছাড়া, ভিউয়ার ও ক্রিয়েটর উভয়কেই বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।

টিকটক এর প্ল্যাটফর্মে ‘বাংলাদেশ ইলেকশন সেন্টার’ নামে একটি হাব তৈরি করতে যাচ্ছে। এই হাবটির মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীরা ভোট প্রক্রিয়া এবং ভোটকেন্দ্রসহ নির্বাচনের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে সঠিক তথ্যগুলো জানতে পারবে। যেখানে ব্যবহারকারীদের জন্য স্থানীয় ভাষার মাধ্যমে তথ্য প্রদান করা হয়। একইভাবে পেইড কন্টেন্ট প্রকাশও সীমিত করছে। নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর সমর্থন বা বিরোধীতা করার জন্য পোস্ট দিলে ক্রিয়েটরদের পোস্ট দ্রুত সরিয়ে দেবে।